রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ১১ ১৪২৮   ১৮ সফর ১৪৪৩

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৫৪

৫৬ বছর পর সচল হলো নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্থল বন্দর

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২১  

গতকাল রোববার (১ আগস্ট) দীর্ঘ ৫৬ বছর কার্যত সচল হলো নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্থল বন্দর। গতকাল ভারত থেকে রেলপথে ৪০টি মালবাহী ওয়াগনে দুই হাজার ২৮৫ দশমিক ২০ মেট্রিকটন পাথর আমদানির মাধ্যমে স্থলবন্দরটি দিয়ে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়।
এদিন ভারতের হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে রেল বহরটি বিকাল পাঁচটার দিকে বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পৌঁছে। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছে সাড়ে পাঁচটার দিকে। স্টেশনে অপেক্ষারত উৎসক জনতা করতালি ও হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানায় রেলবহরটিকে। এ সময় ভারতীয় রেলবহরে আগত প্রতিনিধি দলকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর এ পথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধনে পর এটিই প্রথম পণ্য আমদানি। ওই উদ্বোধনের সাড়ে সাত মাস পর প্রথম দিনেই পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ লাখ এবং কাস্টমস ১১ লাখ এক হাজার ২৭৫ টাকা আয় করল।
এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুর দুয়ার ডিভিশনের ডামডিম রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে রেলবহরটি। ওই বহরে ছিল পাথর ভর্তি ৫৯টি ওয়াগন। ভারতীয় সময় সোয়া ১১টায় সে দেশের হলদিবাড়ি সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছার পর ১৯টি ওয়াগন রেখে ৪০টি নিয়ে বহরটি চিলাহাটি পৌঁছে।
ভারতীয় ওই রেল বহরে ছিলেন রেলওয়ের নিনিয়র গার্ড মুকেশ কুমার সিং। লোকো মাস্টার সঞ্জীত পাল চৌধুরী এবং অরজিৎ রায়।
বাংলাদেশের পক্ষে চিলাহাটি স্টেশনে তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী সুলতান মৃধা, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় লোকোমোটিভ প্রকৌশলী আশিষ কুমার, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম, রাজস্ব কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায়, রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান, ডোমার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জাহিদ হাসান, চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্থান-ভারত যুদ্ধের সময় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথটি বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়া সে পথটি চালু করার উদ্যোগ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর উভয় দেশের রেলপথ নির্মাণ শেষে গত বছরের ১৭ ডিসম্বের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী। ওই উদ্বোধনের সাড়ে সাত মাস পর রবিবার ভারত থেকে পাথর আমদানির মাধ্যমে কার্যত আবারও চালু হলো স্থলবন্দরটি।
চিলাহাটি রেলস্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন,ভারতীয় রেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে ২ হাজার ২৮৫ দশমিক ২০ মেট্রিক টন পাথর নিয়ে মালবাহী ট্রেনটি আমাদের চিলাহাটি রেলষ্টেশন পর্যন্ত এসেছে। প্রতি ওয়াগনে ৫৯ মেট্রিকটন করে পাথর রয়েছে।
পাথর বোঝাই ৪০টি ওয়াগনের মালামাল থেকে ভাড়া বাবদ বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৫ লক্ষাধিক টাকা আয় করবে। চিলাহাটি স্থলবন্দর দিয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন ছয় থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।
নীলফামারী সদর সার্কেলের কাস্টমস কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, আমদানিকারক চায়না সেভেন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাক্টশন লিমিটেডের পক্ষে দিনাজপুরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খান অ্যান্ড সন্স ওই পাথর আমদানি করেছেন। এতে সরকার ১১ লাখ এক হাজার ২৭৫ টাকা রাজস্ব আয় করবে।
তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ পথে ভারত থেকে আমদানি-রপ্তানিতে দূরত্ব কমবে। খরচ সাশ্রয় হবে।
রেলওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান বলেন, পাথরবোঝাই মালবাহী ৪০টি বগির মধ্যে সৈয়দপুর রেলস্টেশনে ২০টি এবং যশোহরের নওয়াপাড়া স্টেশনে ২০ খালাস হবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খান অ্যান্ড সন্সের প্রতিনিধি আমিনুর ইসলাম বলেন, ভারত থেকে এ পথে পাথর আমদানিতে ৪০টি ওয়াগানে খরচ সাশ্রয় হবে আট থেকে ১০ লাখ টাকা। দূরত্ব কমায় সময় কম লাগছে । কারণে এ পথে আদমানিকারকেরা বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
নীলফামারী  চেম্বারের সভাপতি মারুফ জামান বলেন, ৫৬ বছর পর সমস্যার সমাধান হলো। এখন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা কম খরচে রেলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতে পারবেন।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর