মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭   ১৮ রজব ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১৪৪২

স্বামীর রহস্যময় মৃত্যু ও একাধিক প্রেমে রেখার বিতর্কিত জীবন কাহিনী

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৯  

ভানুরেখা গণেশন (জন্মঃ ১০ অক্টোবর, ১৯৫৪) হিন্দী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রেখা নামেই বেশি পরিচিত। রেখাকে বলিউডের চিরসবুজ যৌন আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৬৬ সালে রাঙ্গুলা রত্নম নামে একটি তেলেগু ছবির মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়। কিন্তু নায়িকা হিসেবে ১৯৭০ সালে শাওন ভাদো নামে একটি ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। যদিও প্রথম দিকে তার কিছু ছবি সাফল্য পায় কিন্তু
সত্তর এর দশকের মাঝের দিকে রেখা অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি প্রয়ই তার সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং
যখন তিনি প্লাস্টিক সার্জারি সম্পন্ন করেন তখন ভারতীয় মিডিয়া তাকে যৌন আবেদনের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে।

ছোটবেলাটা বেশ কষ্টেই কেটেছে রেখার। তার বাবা তামিল অভিনেতা জেমিনি গণেশন এবং মা তেলেগু অভিনেত্রী পুষ্পভেল্লী। তবে তারা কোনোদিন বিয়ে করেননি। এ জন্য রেখাকে বিভিন্ন সময়ে শুনতে হয়েছে নানা গঞ্জনা। সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা সমালোচনার। বাবা জেমিনিও ছোটবেলায় রেখাকে সন্তান হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

মেয়েটার মনের জোর ছিল প্রচুর। হার না মানার সহজপাঠ শিখে গিয়েছিলেন খুব ছোট বয়সে। সংসারে অভাব চরমে, বাধ্য হয়েই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন চেন্নাইয়ে জন্ম নেয়া রেখা। তবে প্রথম জীবনে তিনি মোটেও অভিনেত্রী হতে চাননি।তার ইচ্ছা ছিল বিমানসেবিকা হওয়ার। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। সন্ন্যাসিনী হতেও চেয়েছিলেন। পরে সেই ইচ্ছা থেকেও সরে আসেন।

চোখে হাজার স্বপ্ন মেয়েটার। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের উপায় জানা নেই। পরিবারে চরম দারিদ্র। ক্রমাগত আসতে থাকে 'বি গ্রেড' তেলেগু ছবির অফার। বলিউডের পাড়ায় পাড়ায় তিনি তখন ক্রমাগত অডিশন দিয়ে চলেছেন। কিন্তু গায়ের রং কালো। তখন সুন্দরী মানেই প্রথম শর্ত ফরসা হতে হবে। হিন্দিও জানতেন না তেমন। তাই প্রযোজক-পরিচালকরাও একে একে ফিরিয়ে দিতে থাকেন রেখাকে।

কিন্তু তিনি তো দমে যাওয়ার মেয়ে নন। ১৯৬৯ সালে প্রথম কন্নড় ছবিতে অফার মেলে তার। ওই বছরই হিন্দি ছবি আনজানা সফর-এ প্রথম সুযোগ মেলে তার। কিন্তু ভাগ্য সেখানেও সঙ্গ দেয় না। ছবির মুক্তি আটকে যায়। বেশ কয়েক বছর পর যদিও সেই ছবি মুক্তি পেয়েছিল।
ততদিনে ভানুরেখা রেখা হয়ে গেছেন।

এরই মধ্যে বিতর্ক এসে ঘিরে ধরে রেখাকে। দিনটা ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি। আরকে স্টুডিওতে ধূমধাম করে ঋষি কাপুর ও নিতু কাপুরের বিয়ে হচ্ছে। এমন সময় রেখা পৌঁছান সেখানে। মাথায় সিঁদুর। গলায় মঙ্গলসূত্র। কিন্তু তার তো বিয়ে হয়নি। তবে? সে সময় আবার বলিউড পাড়ায় অমিতাভ বচ্চন ও রেখার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন। ওই অনুষ্ঠানে আবার সস্ত্রীক অমিতাভও এসে হাজির। অতিথিদের মনে তখন হাজারো প্রশ্ন।

এরপর মাস খানেকের মধ্যে বিখ্যাত শিল্পপতি মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন রেখা। কিন্তু বিয়ের এক বছর পরই আত্মহত্যা করেন মুকেশ। কেন মুকেশ আত্মহত্যা করেন, তা এখনও রহস্য হয়ে আছে। এরপর রেখার নাম জড়ায় অভিনেতা বিনোদ মেহরার সঙ্গে।
তাদের বিয়ের খবর সে সময় ছিল বলিউডের হটেস্ট টপিক। কলকাতায় নাকি বিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু বিনোদের মা নাকি তাকে পুত্রবধু হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। দিও এ ব্যাপারে কোনোদিন মুখ খোলেননি রেখা।

শুধু বিনোদ মেহরা বা অমিতাভ বচ্চন নন, শত্রুঘ্ন সিন্‌হা, রাজ বব্বর, কমল হাসান এমনকি সঞ্জয় দত্তের সঙ্গেও রেখাকে নিয়ে রটেছিল নানা রকমের গুঞ্জন। তবে সে সবে থোড়াই কেয়ার অভিনেত্রীর। চিরকালই নিজের স্টাইল, গ্ল্যামার এবং ড্রেসিং সেন্সে নজর কেড়ে এসেছেন তিনি।

৪০ বছরের অভিনয় জীবনে রেখা ১৮০টির অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। রেখা তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেন, দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে ও একবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে। ১৯৮১ সালে উমরাহ জান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের
মাধ্যমে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ করেন।

প্রবাসখবর.কম/বি-আর

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর