বৃহস্পতিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২০   অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৭   ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১০০

যুক্তরাষ্ট্রে কারারক্ষীদের নির্যাতনে সাড়ে ৭ হাজার কয়েদির মৃত্যু

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০  

যুক্তরাষ্ট্রে গত দশ বছরে কারারক্ষীদের নির্যাতনে সাড়ে ৭ হাজার কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত দশ বছরে কারারক্ষীদের নির্যাতনে সাড়ে ৭ হাজার কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত দশ বছরে কারারক্ষীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে সাড়ে ৭ হাজার কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ কয়েদির বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ হয়নি। আবার যাদের ছোটখাটো অভিযোগে ধরা হয়েছিল তাদের অনেককেই আদালতে হাজিরও করা হয়নি। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কারাগারে মারা যাওয়া বন্দিদের নথিপত্র যাচাই করে মার্কিন গণমাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর চিত্রের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দশকে জেলের লকআপগুলোতে মৃত্যুর হার ৩৫ ভাগ বেড়েছে। ৭ হাজার ৫৭১ জন বিচারাধীন বন্দি অকালে প্রাণ হারিয়েছে। আর দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ৯ শত ৯৮ জনকে যে অভিযোগে আটক করা হয়েছিল তাতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধে সাজা পাওয়া বন্দিদের স্টেট ও ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়। এছাড়া কারাগারগুলো লঘু সাজাপ্রাপ্ত বন্দি কিংবা বিচারের অপেক্ষায় থাকা বা কোনো সাধারণ অভিযোগে প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ডিটেনশন সেন্টারে আটক রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো মামলায় কেউ দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ। আর মামলা ছাড়া ডিটেনশন সেন্টারে কোনো বন্দির অনাকাংখিত মৃত্যু মৌলিক অধিকারেরই লঙ্ঘন।

উক্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক শাস্তির বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার নীল মেলজার বলেন, ‘অনেক লোক ডিটেনশন সেন্টারে মারা যাচ্ছে এবং তাদের কখনো শাস্তি হয়নি। এটি স্পষ্টতই একটি বড় সমস্যা। আপনাকে এসব ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া ও মানবিক আটকের শর্ত মানতে হবে এবং সবাইকে চিকিৎসা সেবা দিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বন্দিদের মূল অধিকার প্রদান করেছে, কিন্তু এই বিধানগুলো কার্যকর করা বেশ কঠিন। চতুর্দশ সংশোধনীতে বিচারপূর্ব বন্দিদের সাথে ‘ফেয়ার’ সুষ্ঠু আচরণের গ্যারান্টি দেওয়া হলেও ‘ফেয়ার’ আসলে কেমন তা বিচারক এবং জুরিদের ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের মে মাসের একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জন ফিনেগানের বাড়ির সামনের আঙিনা ছাড়বেন না হার্ভি হিল। অঝোর ধারার বৃষ্টির মধ্যেও দাঁড়িয়ে আছেন, আকাশের দিকে তাকিয়ে হাসছেন, কখনো কখনো তার এই সাবেক বসের স্ত্রীকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। কোন উপায় না পেয়ে ফিনেগান ৯১১ এ ডায়াল করলেন। এরপর ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ অফিসারকে ল্যান্ডস্কেপার জন ফিনেগান পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘তার (হিল) মানসিক চিকিৎসা দরকার।’ কিন্তু এর পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে আনা হয় অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ। অবশেষে খারাপ আচরণের সন্দেহে তাকে জেলে নেওয়া হয়। এই ছোট অভিযোগের জন্য তার সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার জরিমানা হতে পারতো। কিন্তু তার ভাগ্যে জোটে হাতকড়া, নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা, অতঃপর নিথর হয়ে পড়ার করুণ নিয়তি।

হিলকে আটকের পরদিন তার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হয়ে পড়ে। এই সময় তিনি মিসিসিপির ক্যান্টনের ম্যাডিসন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ক্ষোভে আকস্মিক একটি চেকবোর্ড নিক্ষেপ করলেন এবং মধ্যাহ্নভোজের একটি ট্রে দিয়ে এক প্রহরীকে আঘাত করেন। ডিটেনশন সেন্টারের সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্রে (এর আগে অপ্রকাশিত) দেখা যায়, তিন জন রক্ষী এসে তাকে ধরে বেধড়ক মারপিট ও চোখেমুখে মরিচেরগুঁড়া মিশ্রিত পানি স্প্রে করেন এবং বারবার নাক-মুখ ও মাথায় লাথি মারেন। এরপর হাতকড়া পরিয়ে দুজন রক্ষী হিলকে কংক্রিটের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মারেন। স্টেটের এক তদন্তে দেখা গেছে, তারা ক্যামেরা থেকে দূরে ঝরনার দিকে তাকে নিয়ে যান এবং ওই সময়েও হাতকড়া পড়ানো অবস্থায় তাকে আবারো মারপিট করে। প্রহরীরা বলেন, হিল ছিল মারমুখী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তাকে ঠেকাতে শক্তি প্রয়োগ দরকার ছিল।

প্রবাসখবর.কম/এস 

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর