রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ২৩ ১৪২৭   ২৩ রজব ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৬৫

মহামারী করোনার প্রভাবে অনিশ্চয়তায় প্রবাসী শ্রমিকরা

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

কোভিড-১৯ অতিমারি সমাজের সকল স্তরকেই নাড়া দিয়েছে বলে জানালেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ, বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্যসহ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কেউ পিছে পড়ে থাকবে না’এই লক্ষ্য অর্জনে কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলার বিষয়টিকে অবশ্যই সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) ‘বিদ্যমান অসমতা: এসডিজির কার্য-দশকে সবার জন্য বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ ও বৈষম্য দূরীকরণ’ শীর্ষক অর্থননৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) উচ্চ পর্যায়ের এক বিশেষ সভায় প্রদত্ত বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ অতিমারিজনিত সঙ্কটে সবচেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে অভিবাসী শ্রমিকরা। এটি আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান অসমতা ও বৈষ্যমেরই প্রকাশ। পেছনে পড়ে থাকা মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজন’।
সমতা ও সামাজিক ন্যায়-বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন যেখানে সমাজের সবচেয়ে নাজুক অংশকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৩.৭ ভাগের সমান ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বাইরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেখানে নারী, অতিদারিদ্র্য, ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য দূর্দশাপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,  এই বিনিয়োগের শুরু হতে পারে জাতি, মর্যাদা বা জাতীয়তা নির্বিশেষে সকলের জন্য কোভিড ভ্যাকসিনগুলোর সর্বজনীন প্রাপ্যতার সুযোগ তৈরি করার মধ্য দিয়ে।
সকল অংশীজনদের আন্তরিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দারিদ্র্য, সহিংসতা, বৈষম্য, বর্জন এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাবসহ অসমতার মূল কারণগুলো সমাধান করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন যা সুযোগ ও সম্ভাবনা এনে দেয় এবং বর্ণবাদের দুষ্টু চক্র ভাঙ্গতে মানুষকে সহায়তা করে। তিনি কোভিড-১৯ এর সময়ে ডিজিটাল সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার কারণে অনেক শিশুর পড়াশোনা থেকে দূরে থাকতে হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন এবং এক্ষেত্রে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে সকলকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ব্যতীত বর্ণবাদের মতো সামাজিক কূফলগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয় কারণ এগুলো সমাজের গভীরে প্রোথিত।
অন্তর্ভুক্তমূলক ও টেকসই ভিত্তিমূলে প্রতিষ্ঠিত-এমন একটি নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বহুমাত্রিক ধরণ নির্মূলে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদেরকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে হবে।
ইভেন্টটির আয়োজন করে ইকোসক। এতে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর