বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮   ২৪ রমজান ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৬৯৭

ফ্রি-ভিসা আশীর্বাদ না অভিশাপ!

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৯  

প্রতীকি চিত্র

প্রতীকি চিত্র

ফ্রি ভিসা নিয়ে অনেক কথা হয়। বাংলাদেশের সহজ-সরল অনেক বেকার বা চাকরিজীবী কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়তো এখনো স্বপ্ন দেখেন ‘ফ্রি-ভিসায়’ মধ্যপ্রাচ্যে তেলের খনির দেশে এসে ভাগ্যটাকে সোনায় মুড়ে নেবেন, পরিবারের অভাব-অনটন চিরতরে দূর করবেন। কিন্তু সিংহভাগ ক্ষেত্রে কথিত ফ্রি-ভিসায় সেই আশীর্বাদ মেলে না। কেন? আসুন জেনে নেই সংক্ষেপে-   

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের কাছে এক বিড়ম্বনার নাম ‘ফ্রি ভিসা’। মূলত ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কোনো ভিসা নেই; আছে ওয়ার্ক ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা, হজ ও ওমরাহ ভিসা ইত্যাদি। অথচ আমাদেরই একটি চক্রের অভিনব আবিষ্কার ‘ফ্রি ভিসা।’ এ ক্ষেত্রে কোনো এক বা একাধিক স্থানীয় আরবকে কিছু টাকার বিনিময়ে তার বাড়ি, বাগান বা প্রতিষ্ঠানে কাজের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার সরকারি অনুমোদন ও ভিসা নেওয়া হয়। এ ভিসায় কারও নাম থাকে না। স্থানীয় আরবের সঙ্গে সমঝোতা থাকে যে, এই ভিসার মাধ্যমে যে বাংলাদেশি প্রবাসে আসবে, তাকে অন্য যে কোনো স্থানে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হবে।

এ স্বাধীনতার কারণেই হয়তো ‘ফ্রি ভিসা’ কথাটির উৎপত্তি। এরপর এ ভিসাটি রীতিমতো নিলামের মতো বিক্রি হয় এবং লাভের ওপর লাভে হাতবদল হতে থাকে। সব শেষে কেউ একজন এ ভিসা ব্যবহার করে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

উচ্চমূল্যে কেনা এ ভিসার পুরো ব্যয়ভার লাভসহ পরিশোধ করতে হয় অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। এ ভিসায় বিদেশে গিয়ে তার পছন্দমতো কোনো কাজ জোটানোও ভাগ্যের ব্যাপার। আর কাজ জুটলেও কাগজে-কলমে সে স্থানীয় আরব স্পন্সর বা ‘কফিল’-এর অধীন থাকে। তার ভিসা নবায়ন, হজ বা বিদেশযাত্রা, গাড়ি কেনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ইত্যাদি কাজে সেই স্পন্সর বা কফিলের স্বাক্ষর লাগে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কফিল লোভী হলে বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী অবস্থান করলে মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া এ স্বাক্ষর মেলে না।

অপরদিকে, কথিত ফ্রি-ভিসায় নেই চাকরির নিশ্চয়তা। উল্টো প্রতিবছর চুক্তি নবায়ন, আইডি নবায়ন এসব খাতে মোটা টাকা খরচা করতে হয়। কাগজে একটা স্বাক্ষরের জন্য ঘুরতে ভিসাদাতা মালিক তথা কফিলের পিছু পিছু। ওই স্বাক্ষরের জন্যও গুণতে হয় টাকা। একদিকে চাকরির নিশ্চয়তা নেই, অন্যদিকে পুলিশের ভয়, সারাক্ষণ নিরাপত্তাহীনতা- এই করে করে অনেকে অসুস্থ হয়ে যায়। কেউ ঝুঁকে পড়ে মাদকে, অনৈতিক কাজে। শেষে পুলিশের হাতে ধরা- তারপর কারাবাস।

সুতরাং, এই ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে আসাটা অনেকের জন্যই মহাবিপদের গর্তে ঝাঁপ দেওয়ার মতো। তাই, এ ধরনের ফ্রি-ভিসা ফাঁদ বিষয়ে নিজে সচেতন হোন, অন্যদেরও সচেতন করে তুলুন। মনে রাখভবেন, দালালদের কোনো বুক-পিঠ নেই। তারা আপনাকে মানুষ মনে করে না, মনে করে পণ্য। তাই আপনি তথাকথিত ফ্রি-ভিসায় গিয়ে কোন বিপদে পড়বেন, দেশে আপনার পরিবার বাঁচবে কি মরবে- সেসব চিন্তা তারা করে না। এই চিন্তা কিন্তু আপনাকেই করতে হবে। 

প্রবাসখবর.কম/ওএন

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর