বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮   ২৪ রমজান ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১৬৭৯

প্রশান্ত মহা্সাগরের রহস্যময় দ্বীপ নান-মাডল, কী আছে সেখানে?

প্রবাসখবর.কম ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সুবিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে পরিত্যক্ত জনহীন এক দ্বীপ নিয়ে লোমহর্ষক কথা প্রচলিত আছে। অনেকেই বলে থাকেন সেই দ্বীপে কেউ একরাত থাকলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত। দিনের বেলা যাই থাকুক, রাতের আঁধারে নাকি দ্বীপটির রূপ পুরোই বদলে যায়। জনশ্রুতি মতে, ভয়াবহ ভূতুরে পরিবেশ ধারণ করে তখন দ্বীপটি।

তবে সরল কথা হচ্ছে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপটি এখন ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়ার অংশ, এর মধ্যকার রহস্যময় শহরটি প্রায় ১৬২৮ সাল পর্যন্ত সাউদেলেয়ার রাজাদের রাজধানী ছিল। সম্ভবত পানি ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়ে শহরটি ছেড়ে চলে যায় অধিবাসীরা। এই শহরকে ঘিরে আছে দৈর্ঘ্যে দেড় কিলোমিটার ও চওড়ায় আধা কিলোমিটার পাথরের দেওয়াল। দেয়ালটিতে থাকা পাথরগুলোর একেকটার ওজন পঞ্চাশ টন প্রায়। যেখানে পিরামিডে ব্যবহৃত পাথরগুলোর একেকটার ওজন মাত্র তিন টনের মতো।

দ্বীপটির নাম নান মাডল। তবে প্রাচীন নাম সউন নান-লেং (স্বর্গের প্রবাল প্রাচীর)।       

নানা মাডল শব্দ দুটির বাংলা অর্থ হতে পারে মধ্যবর্তিনী বা মধ্যবর্তী (দুটি জিনিসের মাঝে অবস্থান)। দ্বীপটির খালগুলো একটা আরেকটার সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে পেঁচিয়ে আছে যে মনে হতে পারে তারা যেন কাটাকুটি খেলছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে মাইক্রোনেশিয়ার নিকটবর্তী পনপেই দ্বীপের পাশেই নান-মাডল নামের এই দ্বীপের অবস্থান, অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ থেকে ১৬০০ মাইল এবং আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস শহর থেকে ২৫০০ মাইল দূরে। দ্বীপটির ভেতরের রহস্যময় শহরটিকে অনেকেই বলে থাকেন পৃথিবীর ‘অষ্টম আশ্চর্য’। দ্বীপের মধ্যকার লেগুনের মধ্যে কৃত্রিমভাবে বেশকিছু দ্বীপ তৈরি করে শহরটি নির্মাণ করা হয়েছে। রেডিও কার্বন টেস্টে জানা গেছে, খৃষ্টপূর্ব ২০০ সালে এর নির্মাণ হয়। এর আগে অনেকেই ধারণা করতেন ১২০০ শতকে এই শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল। যদিও প্রশান্ত মহাসাগরে এর অবস্থান তবে কেউ কেউ একে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া পৌরাণিক শহর আটলান্টিস বলে ধারণা করেন। কেউ কেউ দাবি করেন লোককথায় উল্লেখিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হারিয়ে যাওয়া মহাদেশ ‘মু’ এখানেই ছিল। শহরটিকে ঘিরে আছে অনেকগুলো মন্দির, সমাধিস্থল ও গোসলখানা। অনেকেই মনে করেন এটা ছিল এতদঞ্চলের রাজাদের বাসস্থান যা পনের শতকের দিকে শ্রীহীন হতে শুরু করে এবং উনিশ শতকে এসে পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়।     

প্রশান্ত মহাসাড়গরের একটি বিশাল প্রবাল প্রাচীরের ওপর ভাসছে শহরটি। একে ‘প্যাসিফিকের ভেনিস’ বা ‘ভেনিস অব মাইক্রোনেশিয়া’ নামেও ডাকেন অনেকে। দুর্গম দ্বীপটির এমন এক দুর্গমতম স্থানে রহস্যময় শহরটির অবস্থান যে সাধারণ কারো পক্ষে সেখানে যাওয়া অসম্ভব প্রায়। তবে কৌতুহলী গবেষকরাদল বেঁধে সেই দ্বীপে গিয়েছিলেন। তারা দেখতে পান দ্বীপটিতে আলাদা আলাদা ৯৭টি ব্লক রয়েছে। সরু সরু খালের মতো জলধারা একটি এলাকাকে আরেকটি থেকে আলাদা করে রেখেছে। তবে ব্লক তৈরির কারণ রহস্যাবৃত। এটা অবশ্য সবাই বুঝছেন যে এর পেছনে লুকিয়ে আছে তখনকার অধিবাসীদের কোনো অজ্ঞাত প্রয়োজনীয়তা। কে বা কারা অমন গহীন সমুদ্রের মাঝখানে কী কারণে এমন দ্বীপমালার শহর গড়ে তুলেছিলেন- তার নির্ভরযোগ্য আসল কারণ অজ্ঞাত।

 

আশপাশের মাইলের পর মাইল এলাকায় নেই সভ্য জনপদের চিহ্ন। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দ্বীপটি জুড়ে ঘন জঙ্গল ছাড়া তেমন কিছু নজরে আসে না। দ্বীপটিতে নামলে দেখা যায় সেখানে রয়েছে প্রায় ২৫ ফুট দৈর্ঘের অনেক দেয়াল। দেয়ালগুলো চওড়ায় ১৭ ফুট।

সারাবছর রহস্যময় নান-মাদল দেখতে উৎসাহী আর সাহসী পর্যটকের লাইন কিন্তু লেগেই থাকে। বিশ্বজুড়ে গবেষক বিজ্ঞানীদের শহরটি একটি প্রত্মতাত্ত্বিক ধাঁধাঁ হিসেবে চিন্তায় রেখে দিয়েছে সব সময়ের জন্য। দেখা যাক, আগামীতে কেউ এই ধাঁধাঁর জবাব বের করতে পারেন কি না।

প্রবাসখবর.কম/এসএল    

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর