রোববার   ১৬ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১০৩১

প্রবাসী বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের নিয়ে সৌদি পত্রিকার প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৯  

সম্প্রতি  সৌদি আরবের স্থানীয় নিয়োগ অফিসের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম আল-মাদিনা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৌদিতে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি গৃহকর্মীরা দালালদের লোভের কবলে পড়েন। দাললারা প্রতিটি চুক্তির জন্য তিন হাজার ডলার বৃদ্ধি করেছেন। এই কারণে শতকার ৩০ শতাংশ গৃহকর্মী নিয়োগ কমে গেছে। এছাড়াও অনেক কর্মী দেশে ফেরত আসেন। তবে দেশে ফেরত আসার পেছনে আরো অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তাদের মধ্যে অযোগ্যতাও একটি বড় কারণ।
দেশটির অধিকাংশ নিয়োগ অফিস জানায়, বাংলাদেশ থেকে সে দেশে পাঠানো অনেক গৃহকর্মীরাই কোনো কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে যান না। এই বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের নিয়োগ অফিসগুলোতে জোর দিয়ে বলা হলেও কোনো কাজই করেনি স্থানীয় নিয়োগ অফিসগুলো।
এদিকে এ বিষয়ে সৌদি আরবের স্থানীয় নিয়োগ অফিসের মালিক ইব্রাহিম আল-মজিদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে কাজ করতে আসা গৃহকর্মীর বিশৃঙ্খল। তারা অনেকেই কোনো ধরনের কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন না। এশীয় দেশগুলোর নিয়োগ অফিসগুলো নিজেরা নিয়োগের কাজ না করে দালালদের মাধ্যমে কাজ করায়। এই কারণে বাংলাদেশি গৃহকর্মীরা সমস্যায় পড়েন। তিনি আরো বলেন, তিন মাসের প্রবেশনারি পিরিয়ড শেষ করার আগেই বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়।
আরো একটি নিয়োগ অফিসের মালিক মোহাম্মদ আল বাকামি জানান, বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগের সময় দু’দেশের দালালরাই খরচ বৃদ্ধি করেন। সেই সঙ্গে ওই দালালরাই অযোগ্য গৃহকর্মী পাঠিয়ে দেন সৌদিতে। যার কারণে কাজ করতে আসা বাংলাদেশি নাগরিকরা নানা সমস্যায় পড়েন। এমনকি দেশেও ফিরে যেতে বলা হয়।
এদিকে সৌদি গণমাধ্যম আল-মাদিনায় নানা সমস্যার কথা উঠে এলেও বাংলাদেশি গৃহকর্মীদের নির্যাতন নিয়ে কোনো একটি শব্দ তারা ব্যবহার করেনি। অথচ কয়েকদিন পর পর দেখা যায় নির্যাতনে চিহ্ন নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত আসছেন বহু নারী। তা নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও খবর আসছে। ‘সৌদি ফেরত নির্যাতিত গৃহকর্মীর সন্তান জন্মদানের গল্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয় বিবিসির বাংলা সংস্করনে।
উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে গত বছর এক হাজার তিনশ বেশি নারী শ্রমিক পালিয়ে দেশে চলে এসেছেন। যাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জন ধর্ষণের কারণে গর্ভবতী ছিলেন। কিন্তু এই সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে, কেননা বেশিরভাগই এই তথ্য চেপে রাখেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে সাইকো-সোশাল কাউন্সিলর মাহমুদা আক্তার বলেন, মাঝে মাঝে খুব ভয়ংকর সব পরিস্থিতির শিকার নারীরা কেউ মানসিক বিকারগ্রস্ত অবস্থায় কেউ বা বাক-শক্তিহীন অবস্থায় ঢাকায় পৌঁছান। তাদের মানসিক সহায়তা দেবার মতো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে ইদানিং উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, তবে তা বিচ্ছিন্নভাবে।
নির্যাতনের চিহ্ন বিমানবন্দরে দেখাতে দেখাতে সৌদি থেকে নারীরা দেশে ফেরত আসেন। কিন্তু মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের বাসিন্দা নাজমা নামের এক নারীর কপালে সেই চিহ্ন দেখানোর মতো সৌভাগ্যও জোটেনি। নিঃশ্বাসটুকু ওই দেশে রেখে লাশ হয়ে দেশে ফেরত আসেন তিনি। গত ২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে নাজমার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

প্রবাসখবর.কম/এস

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর