বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭   ১৯ রজব ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৪২

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে তৎপর কাতার দূতাবাস

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

কাতারে শ্রমবাজার সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই লক্ষ্যে দক্ষ জনগোষ্ঠী, কাতার সরকার এবং ওই দেশের বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে দূতাবাস।
জানা যায় এ বিষয়ে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘কাতারে আধাদক্ষ কর্মীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন পেশায় এবং উচ্চ পদে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, কীভাবে কাতারে বাংলাদেশি শ্রমবাজার টেকসই, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল করা যায় সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে মূল্যবান পরামর্শ পেয়ে থাকি।’ একইসঙ্গে দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কাতারে কর্মরত বাংলাদেশিদের শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর কারিগর হিসেবে দেখতে নারাজ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বহুমাত্রিক রূপে দেখি। তারা রেমিট্যান্স পাঠান, একইসঙ্গে কাতারের জনগণের সঙ্গে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।
ভালো কিছু করার জন্য নতুন চিন্তার জোগান দেন। সর্বোপরি তারা পাবলিক ডিপ্লোমেসিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’ তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রবাসীদের যে কেউ প্রবাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘গত বছর ইয়াসিন নামের এক বাংলাদেশি মিস্ত্রি হুইলচেয়ারে বসা এক ব্যক্তিকে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখে। ইয়াসিন তার বাইক থামিয়ে ওই ব্যক্তিকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করেন। এ দৃশ্য আরেকজন ব্যক্তি ভিডিও করে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করলে সেটি ভাইরাল হয়। পরে ইয়াসিনকে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁজে বের করে পুরস্কৃত করে। যা কাতারের সব সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি এই উদাহরণ এখানে প্রায়ই দিয়ে থাকি যে একজন বাংলাদেশি নিজের অজান্তে, শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আরেকজন ব্যক্তিকে সাহায্য করার ফলে বাংলাদেশের অনেক সুনাম হয়েছে।
এভাবে যদি বাংলাদেশিরা সচেতনতার সঙ্গে, সক্রিয় হয়ে, দলবদ্ধভাবে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধির জন্য কাজ করে, তবে কাতারি নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এভাবে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকূটনীতির কাজে অংশ নিতে পারেন।’
এই প্রসঙ্গে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশিত জনকূটনীতিকে বাস্তবানুগ ও সময়োপযোগী কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য দূতাবাসের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে কাতার ১০ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আমি এখানকার বাংলাদেশিদের উৎসাহিত করছি তারাও যেন এই উদ্যোগে শামিল হন।
একে আমরা বলছি সবুজে সহায়তা। এছাড়া পরিবেশ সচেতনতামূলক কাজের অংশ হিসেবে এখানে অনেকে নিজ উদ্যোগে সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার করে থাকেন, যা বাংলাদেশিরাও করতে পারেন এবং করেও থাকেন। তাদের আমি রক্তদান কর্মসূচিতেও উৎসাহিত করছি। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। এই ইতিবাচক ভাবমূর্তির প্রভাব নানা ক্ষেত্রে পড়বে বলে আশা করা যায়।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর