মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭   ১৮ রজব ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১২৮৬

দেশে ফিরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ব্যতিক্রমী ‘পোকা খামার’

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

নিজের পোকা খামারে খলিলুর             ছবি: জাগোনিউজ২৪

নিজের পোকা খামারে খলিলুর ছবি: জাগোনিউজ২৪

যুক্তরাজ্য থেকে পোকা এনে বাংলাদেশের সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় ‘পোকার খামার’ গড়ে তুলেছেন খলিলুর রহমান নামের এক প্রবাসী। উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তেঘরী গ্রামের নিজ বাড়ির পাশে ‘হাজি বায়োসাইকেল কোম্পানি’ নামে প্যারেট পোকার (ব্ল্যাক সোল্ডার ফ্লাই) এই খামারটি গড়ে তুলেছেন উদ্যোগী যুবক খলিলুর রহমান। এ ধরনের পোকার খামার সিলেট বিভাগে এই প্রথম বলে জানা গেছে।

খামারটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনসেড ঘরের ভেতরে ৫টি বড় মশারির ভেতর তৈরি করা হয়েছে ৫টি খাঁচা। খাঁচার ভেতরে রয়েছে পোকাগুলো। এসব পোকার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষের পরিত্যক্ত বিভিন্ন খাবার (ওয়েস্ট ফুড)।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী খলিলুর বলেন,‘মাতৃভূমিতে কিছু একটা করার ইচ্ছে ছিল দীর্ঘদিন থেকে। তাই জন্মভূমি বিশ্বনাথে কোয়েল ও লেয়ার মুরগির খামার করি। কিন্তু কোয়েল ও লেয়ার মুরগির খাদ্যের মূল্য বেশি হওয়ায় চিন্তা করি কীভাবে কম মূল্যে খাবার সংগ্রহ করা যায়। এরপর সিদ্ধান্ত নেই একটি প্যারেট পোকার খামার করার। যাতে কম খরচে খামারের কোয়েল ও লেয়ারের পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের একটি ফার্ম থেকে ১৫০ গ্রাম (প্রায় ১৫০টি) পোকা সংগ্রহ করে দেশে নিয়ে আসি। এরপর গত ২৬ জুন থেকে বাড়ির পাশে খামার তৈরি করে থেকে পোকার চাষ শুরু করি।’

খলিলুর জানান, পাখি ও মুরগির পুষ্টিকর খাবার ‘প্যারেট পোকা’। এই পোকায় রয়েছে ৪০ শতাংশ প্রোটিন ও ২০ শতাংশ ফ্যাট। একটি স্ত্রী পোকা ৫০০ থেকে ৬০০টি ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা (লার্ভা) জন্ম নেয়। এরপর ২১দিনে পোকা পরিপূর্ণ হলে তা পাখি ও মুরগির খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৫ দিনে একটি পোকা ডিম দেয়ার উপযুক্ত হয় এবং ডিম দেয়ার পরই ওই পোকা মারা যায়। মৃত এই পোকাই কোয়েল ও মুরগির প্রিয় খাবার।

জানা গেছে, এসব পোকার খাদ্য হিসেবে মানুষের ফেলে দেওয়া তথা উচ্ছিষ্ট ও পচা খাবার উপযোগী। চাষের জন্য প্রতি কেজি জীবিত পোকা ১২ হাজার টাকা এবং পাখি তথা মুরগির খাবারের জন্য মৃত পোকা ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। খলিলুর জানান, এটি একটি লাভজনক খামার। এই খামারে তিন ধরনের (ভিটল, কিক্রেটস ও ব্ল্যাক সোল্ডার ফ্লাই) পোকা এখন চাষ হচ্ছে।

খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ‘বায়োকনভার্সন ইনোভেটিভ’ সেন্টার শুরু করার লক্ষ্যে ১৫০ গ্রাম (প্রায় ১৫০টি) পোকা ২৫০ টাকায় ক্রয় করি। বর্তমানে আমার খামারে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার পোকা রয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামারটি আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে।

প্রতিদিন পোকার এই ব্যতিক্রমী খামার দেখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নানা বয়সের লোকজন প্রবাসী খলিলের খামারে ভিড় করছেন। সামনে হয়তো আরো অনেকেই এই অঞ্চলে এরকম পোকার খামার গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে। যা পোষা পাখির খাদ্যের নয়া উৎস সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে নব দিগন্তের বিস্তার ঘটাতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

প্রবাসখবর২৪.কম/এসএম
 

প্রবাস খবর