বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৬ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৭৮

দুবাই প্রবাসী বাবার সঙ্গে পিয়ার আর দেখা হলো না

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বাবার সঙ্গে পিয়ার আর দেখা হলো না। ছোট দেবস্মিতা পাল পিয়া তার বাবা থাকেন দুবাইয়ের আবুধাবিতে। জন্মের পর থেকে বাবার সঙ্গে কখনোই দেখা হয়নি পিয়ার। তার বয়স এখন দুই বছর চার মাস ছুঁই-ছুঁই।
জানা যায়, বাবার সঙ্গে যখন ভিডিও কলে দেবস্মিতা পাল পিয়ার দিনে কথা হতো দুই-একবার। সেটিও ছিল অধো-আধো কণ্ঠে। বাবাকে বাস্তবে কোনো দিন দেখেনি, উঠতে পারেনি কোলেও। আর কখনো দেখাও হবে না তাদের। কারণ তার বাবার নিষ্প্রাণ দেহ হয়ে ফিরছে বাড়িতে। পিয়ার বাবা দেবাশীষ কুমার পাল (৩১) প্রায় ১১ বছর ধরে থাকতেন দুবাইয়ের আবুধাবিতে। ছিলেন একজন ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’।
গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। তার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা বাজার এলাকার পাল পাড়ায়। ওই এলাকার দিনেশ কুমার পালের একমাত্র ছেলে ছিলেন তিনি। দেবাশীষের জ্যাঠা অশ্বিনী কুমার রায় জানান, দুবাইয়ে আইনি জটিলতা শেষে দেবাশীষের মরদেহ দেশে আসতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। পরিবারের লোকজন জানায়, লালমনিরহাট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া শেষ করে পরিবারের সচ্ছলতা আনতে দুবাই যান দেবাশীষ।
সেখানে তিনি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে ‘ফোরম্যানের’ চাকরি করতেন। তার পাঠানো টাকায় সংসারের অভাব অনেকটা দূর হয়েছে, হয়েছে পাকা বাড়ি। একমাত্র বোনকেও বিয়ে দিয়েছেন। তিনি দুবাই থেকে কয়েকবার দেশে এসেছিলেন। বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেছেন। সর্বশেষ প্রায় তিন বছর আগে বাড়িতে এসেছিলেন। দেবাশীষের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিবারটি একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়েছে। দেবাশীষের জ্যাঠা ও কৃষি কর্মকর্তা অশ্বিনী কুমার পাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সোমবার সকালে বাসা থেকে অফিসের গাড়িতে কর্মস্থলে যান দেবাশীষ।
গাড়ি থেকে নেমে পেছনে আসামাত্র অপর একটি দ্রুতগতির গাড়ি চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। জানা গেছে, মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই শুরু হয় কান্না। সেই শোক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ওই দিন থেকেই দেবাশীষের মা পারুল রাণী ও স্ত্রী লিমা পাল রত্না (২৩) যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। দেবাশীষের মা পারুল রাণী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমরা যাতে ভালোভাবে চলতে পারি সে জন্য স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে আমার ছেলেটি অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করত। কিন্তু সে এভাবে চলে গেল।
এখন কবে তার লাশটি পাব তাও জানি না। দেবাশীষ কুমার পালের স্ত্রী লিমা পাল রত্না বলেন, এমন দুর্ভাগা মেয়ে আমার সে তার বাবাকেই কোনো দিন দেখেনি, বুকে যেতে পারেনি। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল বাবা। প্রথমবারের মতো বাবাকে দেখবে কিন্তু বাবা আর কোনো কথা বলতে পারবে না। আর কিছু বলতে পারেন না তিনি, ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

প্রবাসখবর.কম/বি 

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর