বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮   ২৪ রমজান ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৬৯৩০

কুয়েতে লজ্জাজনক ঘটনার খলনায়ক শাহিনকে দেশে ফেরার নির্দেশ

কুয়েত সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

সেই ঘটনা যার সূত্রে শেষতক শাহিনকে দেশে ফিরতে হচ্ছে   -ফাইল ফটো

সেই ঘটনা যার সূত্রে শেষতক শাহিনকে দেশে ফিরতে হচ্ছে -ফাইল ফটো

অবশেষে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ‘বেআদপ’ সিকিউরিটি গার্ড শাহিনকে দেশে পাঠানো হচ্ছে। গতকাল রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক আদেশ জারি করেছে এ বিষয়ে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্থাপন-২ শাখার সহাকারী সচিব আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে লেখা আছে, জনাব মো. শাহিন কবির, নিরাপত্তা প্রহরীকে বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত থেকে মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হলো। ওই অফিস আদেশে আরো বলা হয়েছে, নিরাপত্তা প্রহরী শাহিনকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের মথ্যে মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হলো।যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর দূতাবাসে আসা আকরাম নামের এক প্রবাসী শ্রমিকের সঙ্গে খুবই দুর্ব্যবহার করেন সিকিউরিটি গার্ড শাহিন। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে কুয়েতসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দেখা দেয়। এ ঘটনায় জানা যায়, দূতবাসে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। প্রবাসীরা অভিযোগ করেন, যে কোনো কাজেই দূতাবাসে কর্মরত একশ্রেণির কর্মী মোটা টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে অনেক অভিযোগ করেও কাজ হয় না। 
প্রবাসখবর.কম সহ দেশের অনেক পত্রিকা এবারের ঘটনায় সোচ্চার ভূমিকা রাখে। বেশকিছু প্রতিবেদনের মাধ্যমে দূতাবাস নিয়ে কুয়েতপ্রবাসীদের আবেগ ও কষ্টের কথা তুলে ধরা হয় পরররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে।

শেষপর্যন্ত সরকার দুষ্টের দমনে এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ায় কুয়েতপ্রবাসীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। আব্বাসিয়ায় কর্মরত শ্রমিক তাইমুর জীবন বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে যেভাবে তাদের বাদ দিয়েছেন তা সবার প্রশংসা পেয়েছে। এবার মনে হচ্ছে কুয়েত দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রহরী দুষ্ট শাহিনদের মতো অন্যরাও রেহাই পাবে না। তাদের দেশে নিয়ে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করা উচিৎ।

সুলাইবিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার বাসিন্দা বাংলাদেশি মোটর মেকানিক উজ্জ্বল বলেন, প্রবাসে যাতে দেশের মানসম্মানের হানি না হয় সেদিকে প্রবাসী সমাজ ও সরকারকে সচেতন থাকতে হবে। এটা একটি ভাল উদ্যোগ। তবে শাহিনের সঙ্গে থাকা ক্লিনার কাজি জাহিদকেও শাস্তির আওতায় আনা দরকার। একই সঙ্গে তাদের যারা মদদদাতা, যাদের প্রশ্রয়ে তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে- তদন্ত করে তাদেরও শাস্তি দিতে হবে। 

ফারওয়ানিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি আইটি কর্মী মইনুল বললেন, বেআদপদের স্থান যেন কোথাও না হয়। এই ঘটনা দূতাবাস এবং প্রবাসী শ্রমিক- সবার জন্য ভাল খবর। এবং দূতাবাসের অন্যান্য দুর্র্বত্তদের জন্যও সতর্ক সংকেত। মাননীয় রাষ্ট্রদূত এবার সাহসের সঙ্গে এদের শৃঙ্খলায় রাখতে পারবেন।  

কুয়েত সিটির বাসিন্দা শফিক নামে অপর প্রবাসী বলেন, দুনিয়ার সব দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া দরকার যে প্রবাসীদের সঙ্গে বেআদপি করে কেউ পার পাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কারণ, এ ধরনের লোকগুলো আগে বারবার অপরাধ করেও শাস্তি পেত না। এবার তারা সাবধান হবে। 

এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

কফিল ছাড়া কাতারে থাকার নতুন আইনটি সম্পর্কে জানেন তো? সংবাদটি পড়তে ক্লিক করুন।
প্রবাসখবর.কম/এসএম
 

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর