মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৫ ১৪২৭   ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৩০

কানাডার ম্যানিটোবায় প্রথম শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ চলছে

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০  

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

এই শহীদ মিনারের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রফেসার হেলাল মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উইনিপেগের কার্কব্রিজ পার্ক একটি বর্ধিষ্ণু কমিউনিটি পার্ক। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার মধ্যে পার্কটি অবস্থিত। এই পার্কের একটি ছোট ডাক পণ্ড (বালিহাসদের জন্য পুকুর) লাগোয়া স্থানকে চত্বরটি নির্মাণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

উইনিপেগের বাংলাদেশিদের কয়েক বছরের আন্তরিক নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এই শহীদ মিনারটি। ম্যানিটোবার প্রাদেশিক সরকার এবং উইনিপেগের নগর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির সিংহভাগ ব্যয় বহন করছে। রয়েছে বাংলাদেশিদের অর্থ সাহায্যও। গত কয়েক বছরে একাধিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উইনিপেগের বাংলাদেশিদের অর্থ-সহায়তার সংস্থান হয়। চত্বরটির নির্মাণব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রার অংকে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

কাঠামোগুলোকে শীতসহিষ্ণু ও পরিবেশ বান্ধব রাখার প্রয়োজনে গ্যাল্ভানাইজড স্টিলে মূল মিনারগুলো নির্মিত হবে। বেদি ও চারপাশের এলাকায় থাকবে কংক্রিট ও পাথরের নান্দনিক মিশ্রণ। সবুজ শীতসহিষ্ণু গুল্ম আচ্ছাদিত থাকবে চত্বর সীমানা। কানাডার আদিবাসী ভাষা-চিহ্নের স্মারক প্রস্তরের গাঁথুনিও থাকবে মূল বেদিতে।

উইনিপেগ শহরটি নানা কারণে বিশেষত্বপূর্ণ। শহরটি কানাডার তিনটি প্রেইরি প্রদেশের মধ্যে সবচাইতে বড় সমতলভূমি। তার চাইতেও গুরুত্বপুর্ণ বিষয় এই যে শহরটি উত্তর আমেরিকার ‘জিরো পয়েন্ট’। কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকলে কেন্দ্রবিন্দুটিই উইনিপেগ।

শহরটির আরো বিশেষত্ব এই যে পৃথিবীর একমাত্র মানবাধিকার জাদুঘরটিও উইনিপেগেই। জাদুঘরটির কারণে ম্যানিটবার মানবাধিকার কর্মীগণ উইনিপেগকে ‘জেনেভা অব হিউম্যান রাইটস’ বা ‘মানবাধিকারের জেনেভা’ নামেও উল্লেখ করতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চত্বরটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবার পাশাপাশি এলাকাটিকে একটি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

এদিকে, গত কয়েক বছর ধরে টরন্টোতে একাধিক স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তবে টরন্টোস্থ বাঙালি অধ্যুষিত ড্যানফোর্থ ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার নিকটবর্তী টেইলর ক্রিক পার্কে (ডজ রোড এবং ক্রিসেন্ট টাউন রোড এর সংযোগস্থলে) নির্মিত হতে যাচ্ছে- একটি শহীদ মিনার। সিটি অব টরন্টোর পার্কস, ফরেস্ট্রি এ্যান্ড রিক্রিয়েশন ডিপার্টমেন্ট প্রয়োজনীয় রিভিউ শেষে টেইলর ক্রিক পার্কের ৫ নং পিকনিক স্পটের পার্শ্ববর্তী পার্কিং লট শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি প্রদান করে এবং সিটি অব টরন্টোর পার্কস এন্ড এনভায়রনমেন্ট কমিটি্ তা অনুমোদন করেছে।

প্রবাসখবর.কম/এস 

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর