রোববার   ১৬ মে ২০২১   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮   ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
১৬১৫

কাতার ও সৌদিতে নির্যাতনের শিকার আলম দেশে ফিরতে চায়

দুলাল ঘোষ

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৯  

সেই দিনের টগবগে যুবক আলম ও আজকের বিধ্বস্ত জরজর আলম           ছবি: প্রবাসখবর.কম

সেই দিনের টগবগে যুবক আলম ও আজকের বিধ্বস্ত জরজর আলম ছবি: প্রবাসখবর.কম

নূরপুর। গ্রামটি আখাউড়ার ভারত সীমান্তবর্তী। এই গ্রামেরই ছেলে আলম খান। বর্তমানে চল্লিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ভাগ্য বদলাতে প্রায় চার বছর আগে পারি দেন কাতারে। চোখে-মুখে রঙ্গিন স্বপন। কিন্তু ভাগ্য তার সঙ্গ দেয়নি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে সেই রঙিন স্বপ্ন এখন নির্মম সাদাকালো প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে কাতারে যার অধীনে ছিলেন তিনি তাকে বিক্রি করে দেন সৌদির কোনো এক ব্যক্তির কাছে। সেই থেকে তিনি ছিলেন নিখোঁজ। হতভাগা এই ব্যক্তির ওপর চলে অমানসিক নির্যাতন। প্রায় তিন দিন আগে পালিয়ে আসেন তিনি। পরিবারের কাছে ফোন করেন। দীর্ঘদিন পর স্বামীর ফোন পেয়ে প্রিয়জনের উচ্ছ্বাস থেমে যায় করুন নির্যাতিত হওয়ার গল্প আর এখনো দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নিয়ে।

আলম যেন বাড়ি ফিরতে পারেন এই জন্য তার পরিবারের লোকজন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তার স্ত্রী রেহেনা বেগম প্রবাসখবর.কমকে জানান, তার স্বামী আলম জানিয়েছেন ক্রমাগত নির্যাতনের ফলে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সৌদির মালিক পক্ষ তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করায়। সেখান থেকে ওই মালিকের কাছেই আবার নেওয়ার পথে তিনি গাড়ি থেকে লাফিয়ে পরেন। রাস্তায় থাকা পুলিশের কাছে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি সৌদি পুলিশ হেফাজতে আছেন বলে জানিয়েছে আলমের স্ত্রী।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের নরিয়া নামক এলাকায় এক প্রবাসী বাংলাদেশির আশ্রয়ে আছেন তার স্বামী।

 কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহেনা বলেন, ‘আমার তিনটি সন্তান। এদের একজন প্রতিবন্দ্বী। সন্তানদের নিয়ে গত চার বছর অর্ধাহার-অনাহারে দিন পার করেছি। এই সময়ে স্বামীর খোঁজ পাইনি। এখন স্বামীর খোঁজ পেয়েছি। তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কি করতে হবে তার কিছুই জানি না।’ 

আলমের স্ত্রী জানিয়েছেন, পরিবারকে সুখের সন্ধান দিতে গিয়ে তার স্বামী এখন ভয়াবহ বিপদে, আর দেশে তিনি তিন সন্তান নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় আছেন। এই বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাস যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়- সেজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন গৃহবধু রেহেনা।

প্রবাসখবর.কম/এসএম

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর