শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১   ফাল্গুন ১৪ ১৪২৭   ১৪ রজব ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
২৪৫৭

কাতারে নষ্ট হতে চলেছে ৫ লাখ বাংলাদেশির সুখের আবাস!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৯  

এক হিসেবে জানা গেছে, কাতারের মসজিদ ও ধর্মীয় সেন্টারগুলোর সিংহভাগেই চাকরি করছেন বাংলাদেশি ইমাম ও মোয়াজ্জেনরা। তাদের সংখ্যা লক্ষাধিক। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি ছোট্ট অথচ সম্পদশালী দেশ কাতারে আছেন। তারা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় মন্দ নেই সেখানে। কাতারি সরকার ও জনগণ এখননও বাংলাদেশিদের ভাল নজরেই বিবেচনা করে। 

কিন্তু কিছু ঘটনাক্রম দেখে মনে হচ্ছে কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনছেন। অথচ এই দেশটিতে বাংলাদেশিদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশির মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, ইমামরা এখানে মাথা মাথা উঁচু করেই অন্যান্য দেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন। অনেকে অসাধারণ কাজ দেখাচ্ছেন যা কাতারের শাসকদের চোখে শ্রদ্ধা জাগাচ্ছে বাংলাদেশিদের নিয়ে। যেমন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান কাতারের জন্ম ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। তিনি গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে কাতার কখনও পরাধীন ছিল না। তাই ১৯৭১ সনে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল বলে যে ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়ে আছে- এটা সঠিক ইতিহাস নয়।

প্রভাবশালী দেশটিতে এই যখন বাংলাদেশিদের অবস্থান তখন সেখানে বাংলাদেশিরাই আত্মঘাতি হয়ে নতুন সংকট তৈরি করছেননিজেদের জন্য। বাংলাদেশ থেকে মাদক পাচার করতে গিয়ে কাতারি বিমানবন্দরে ধরা পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি। এই মুহূর্তে ১৫২ জন বাংলাদেশি মাদক পাচারের দায়ে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া কাতারের তিনটি কারাগারে নানা অপরাধে বন্দি আছেন ২৩২ জন বাংলাদেশি। অতি সম্প্রতি কয়েক কেজি গাঁজাসহ দুই বাংলাদেশি ধরা পড়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। চেক জালিয়াতি, ভিসা জালিয়াতি, অপহরণ, সদর রাস্তায় ডাকাতির সঙ্গেও বাংলাদেশিরা জড়িত রয়েছেন- দুঃখজনক হলেও এসব অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাদক ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশিরা জড়িয়ে পড়ায় এখানকার দূতাবাসও অনেকটা বিব্রত, উদ্বিগ্ন। কারণ, মাদক পাচারের বিষয়টি খুবই কঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয় এখানে।

চলমান এই সমস্যা প্রসঙ্গে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেমিটেন্সের দিক থেকেও আমরা উপরে। লোকসংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে- মাদক বিষয়ক অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ায় ভাবমূর্তির একটা সংকট তৈরি হচ্ছে। দেশ থেকে যখন বাংলাদেশিরা আসছে তাদের অনেকের কাছে পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, আফিমসহ নানা ধরনের মাদক। রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে আট লাখ ভারতীয়, ছয় লাখ নেপালি ও বাংলাদেশের চার লাখ প্রবাসী রয়েছেন।

প্রবাসী পরিসংখ্যানের দিক থেকে তেলসম্পদে সমৃদ্ধ ও উন্নত উপসাগরীয় ক্ষুদ্র এই দেশটিতে বাংলাদেশিরা তৃতীয়। কিন্তু জেলখানায় বন্দিদের সংখ্যায় দেখা যায় বাংলাদেশিরা ফার্স্ট। মাদক আটক সম্পর্কে আমরা যে কথাটা শুনি, বাংলাদেশিরা বলে থাকেন, ‘তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। ঢাকার এয়ারপোর্টে ধরা পড়ে না, এখানে এসে ধরা পড়ে।’- এমন বলা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রদূতের মতে, ঢাকা বিমানবন্দরে নজরদারি জরুরি। তা না হলে এই সংকট বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে এক কঠিন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।

অবস্থা এমন চলতে থাকলে মালয়েশিয়া, কুয়েত, আমিরাতের মতো বাজে অবস্থা এখানেও তৈরি হতে পারে বাংলাদেশিদের জন্য- যা খুবই ক্ষতিকর হয়ে যাবে দেশ ও প্রবাসীদের জন্য। 

কাতারে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, এমনিতে শ্রমবাজার সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমরা যদি আমাদের ভালোটা না বুঝি তাহলে বিপদ আসতে পারে যে কোনো সময়। কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছি অপরাধের মাত্রা কমাতে। তিনি বলেন, মাদক কীভাবে এদেশে আসছে তা দেখতে হবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির তরফ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাউন্সেলিং অন্যতম।

গোদের ওপর বিষেফোঁড়ার মতো বাংলাদেশ থেকে আসা নারীরাও এখন নানা অপরাধে জড়িয়ে গেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নারীর সাজা হয়েছে বিভিন্ন অপরাধে। শিল্পী আক্তার নামের একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। অপহরণ, চুরি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে অন্যদের।

মোটকথা প্রতিযোগিতা করে যেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে অপরাধ বাড়ছে। অপরাধের তালিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাদারীপুর জেলার লোকজন শীর্ষে। এই দুই জেলা থেকে আগতদের সম্পর্কে এখানকার পুলিশও বেশ সতর্ক। ইতিমধ্যেই ‘ব্রাহ্মণ’  আর  ‘মাদার’ এই দু’টি নাম তাদের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে গেছে নেতিবাচক অর্থে। যা দেশের ঐতিহ্যবাহী ওই দুই জেলাবাসী এবং বাংলাদেশি কারো জন্যই সুখকর নয়।

সবশেষে সবার জ্ঞাতার্থে বিশেষ দ্রষ্টব্য তথ্য হচ্ছে, কাতারে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়নি, তবে সংখ্যায় কমেছে। দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কাতারে অনেকখানি। বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে এই সুযোগ নিতে পারে পুরোমাত্রায়। [সৌজন্য: প্রাইমনিউজবিডি২৪]

প্রবাসখবর.কম/এসএল

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর