সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ৬ ১৪২৭   ০৩ সফর ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৩৪

করোনা বিস্তার রোধে অস্ট্রেলিয়ায় আবারো বাড়ল লকডাউন

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

দেরীতে হলেও অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের মেলবোর্নে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিন্তু কমতে শুরু করেছে। গেল সপ্তাহে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক'শ জনের নিচে ছিলো। যদিও মৃত্যুর সংখ্যা এখনও বাড়ছে।এদিকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করলেও আশঙ্কা না কমায় লকডাউন আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি শহরে লকডাউন ও সরকারের করোনা নীতিমালার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে বহু মানুষ। 
জানা যায়, এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৫৩ জন। এবং করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২৬ হাজার ২৫০ জনের মত। সংখ্যাটি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম চার মাসে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলো মাত্র ৭ হাজারের মত এবং সেখানে ১০০ জনের মত মারা গেছিলো বাকি যে ৬০০ জন মারা গেছে এবং ২০ হাজারের মত আক্রান্ত হয়েছে তা কিন্তু গত দু মাসে। 
এছাড়া তার পুরোটাই কিন্তু মারা গেছে মেলবোর্নে এবং আক্রান্তও হয়েছে। মেলবোর্নে এখনো লকডাউন চলমান আছে। কারফিউ জারী করা আছে এবং চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন চলছে দেশটিতে। এরিমধ্যে গত শনিবারে একটি অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন একটি প্রটেষ্ট এর আয়োজন করেছিলো। এটা শুধু মেলবোর্নে না সিডনি,পার্থ, এডিলে, এবং ব্রিজবনেও কিন্তু তারা এ আয়োজন করেছিলেন। তবে অন্যান্য শহরগুলো এই প্রটেষ্ট এভাবে জমেনি। কিন্তু মেলবোর্নে ৩০০ জনের অধিক নাগরিক এই প্রটেষ্টে অংশগ্রহণ করেছিলো। 
সরকারের অনুমতি ছাড়াই তারা একজায়গায় জড়ো হয়েছিলো এবং মাস্ক ব্যাবহার করছিলো না। তাদের দাবি ছিল সরকার তাদের স্বাধীনতা খর্ব করছে। এই জন্য মেলবোর্নে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো এবং পুলিশের সাথে ধাওয়া পালটা ধাওয়া হয়। সেখানে পুলিশ আয়োজকদের ভেতর থেকে ১২ জনকে বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে। অনেককে জেলে নিয়ে গেছিলো যদিও পরে তারা বেরিয়ে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার চাচ্ছে আরো কয়েকদিন এই লকডাউন চলমান রাখতে তাহলে তারা করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শূন্যর কোঠায় নামিয়ে আনতে পারবে। 
এদিকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার এয়ারপোর্ট বন্ধ থাকবে বিদেশীরা চাইলেই ঢুকতে পারবে না। দেশটির সরকার বলছে তৃতীয় পর্যায়ে যেন অস্ট্রেলিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেন বেড়ে না যায়। কারণ দেশটির সরকার অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে এনেছে এবং বলছে আগামী অনেক বছর ধরে এটি রিকোভার করতে হবে। 
দেশটি তৃতীয় পর্যায়ে যেন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা না বাড়ে সেদিক থেকে সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের নাগরিকদের ভেতর যে ভয় ছিলো সেটা কেটে গেছে তারা বাসা থেকে বের হতে চাচ্ছে। দেশটিতে এখন শীত চলে গিয়ে গরম পড়তে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরী হারিয়ে বেশ সমস্যায় আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর