শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৯ ১৪২৭   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৫২

অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২০  

গতকাল  ভিয়েনার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং অফিস হফবার্গ প্যালেসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান ডার বেলেনের কাছে অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ আবদুল মুহিত তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। এসময় রাষ্ট্রদূত আবদুল মুহিতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভিয়েনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উপপ্রধান রাহাত বিন জামান।
জানা যায়, পরিচয়পত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পরে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ আবদুল মুহিত অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রিয়া সফরকালে তার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’, ২০২৪ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনার প্রভাব মোকাবেলা করে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। তিনি কোভিড-পরবর্তী পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে গৃহীত ‘Leaders’ Pledge for Nature’ শীর্ষক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অস্ট্রিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য ‘Leaders’ Pledge for Nature’ শীর্ষক উদ্যোগটি ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে উন্মোচন করা হয় এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ উদ্যোগের একজন স্বাক্ষরকারী। এছাড়াও বাস্তুসংস্থান এবং জলবায়ু সংরক্ষণ বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অস্ট্রিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে রাষ্ট্রদূত অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। 
এছাড়াও বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও আলোচনা হয়। অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় প্রদান করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত মুহিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্টকে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পরিচয়পত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অস্ট্রিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে সম্মানসূচক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর