বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১   বৈশাখ ২৩ ১৪২৮   ২৪ রমজান ১৪৪২

প্রবাস খবর
সর্বশেষ:
আপনি কি আপনার প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লিখতে চান? লেখা [email protected] এ পাঠাতে পারেন।
৭১

অভিমান করে সৌদি প্রবাসী যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২১  

গত রবিবার (২ মে) সকাল ৮ টায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের এসকান-১ এলাকায় প্রেমিকার সঙ্গে অভিমানে সৌদি প্রবাসী যুবকের আত্মহত্যা।
জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাসের সকালে নূর হোসেন নামের ওই যুবকের আকস্মিক আত্মহত্যায় শোক বিহ্বল হয়ে পড়েছে রিয়াদের পুরো এসকান এলাকা।
নিহতের সেজ ভাই, খোকনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিদিনের মত স্বাভাবিকভাবেই দিনের শুরু করেন তারা। আত্মহত্যার কোন লক্ষণই ছোট ভাই নূর হোসেনের মধ্যে দেখা যায় নি। দুই ভাই একই রুমে পাশাপাশি থাকেন। কাজও করেন একই কোম্পানিতে। তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক। তবে, একটি মেয়ের সঙ্গে প্রায়শই ফোনালাপ হতো বলে জানান তিনি। মেয়েটির সঙ্গে ঝগড়ার রেশ ধরে আকস্মিক এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে এ বিষয়ে ঘটনার দিনের কথা উল্লেখ করে খোকন জানান, অন্য দিনের মতোই সেহরী খেয়ে ভোর চারটার দিকে বাসা থেকে বের হন তারা। রমজান মানে কোম্পানির শিডিউল অনুযায়ী সেহরীর পর, ভোর ৪ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রোজার জন্য বিকেলে কোন কাজ থাকে না। ঘটনার দিনও দুই ভাই কোম্পানির গাড়িযোগে কাজে বের হন। খোকনের কাজের এরিয়া আগে হওয়ায় তিনি আগে নেমে যান। কাজের একপর্যায়ে তার ছোট ভাই নূর হোসেনের কর্মস্থল থেকে ফোন আসে। ফোনে তার ভাইর সহকর্মীরা জানান, তার ভাইর দূর্ঘটনা হয়েছে।
খোকন আরো জানান, শুরুতে তাকে বলা হয়নি তার ভাই আত্মহত্যা করেছে। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে পারিবারিক কোন সমস্যা ছিল কিনা তার ভাইর। খোকন এ প্রশ্নে তখন জানান, তারা দুই ভাই একসাথেই থাকত, কোন সমস্যা ছিল না। পরবর্তীতে তাকে জানানো হয় তার ভাই গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
খোকন জানতেন না তার ছোট ভাইর কোন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে বাড়ি থেকে নিহত নূর হোসেনের ভাবীদের থেকে জানা যায় এই প্রেমের কথা। এছাড়াও নিহতের মোবাইল থেকে ঐ প্রেমিকার একাধিক ছবি পাওয়া যায়। জানা যায়, ঐ প্রেমিকার নাম হালিমা। মেয়ের বাড়ি কুমিল্লা।
নূর হোসেনের বড় ভাই জানান, লাশ এখনো হাসপাতালে পড়ে রয়েছে। তিনি কি করবেন এখনো বুঝতে পারছেন না। লাশ আদৌ দেশে পাঠানো যাবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছেন সংশয়ে।
এদিকে আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর সৌদি প্রবাসী খোকন বলেন, ভাইকে অনেক যত্নে রাখতেন। নিজে ৫০০ সৌদি রিয়ালের (বাংলাদেশী টাকায় ১১ হাজার টাকা) কেনা অনেকদিনের পুরোনো মোবাইল চালালেও ছোট ভাইকে ১২০০ সৌদি রিয়ালের (বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৫ হাজার) ফোন কিনে দিয়েছিলেন। আদরের সেই ভাই প্রবাসের হাসপালাতে লাশ হয়ে পড়ে আছে। এই মর্মান্তিক অবস্থা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
সবশেষে খোকন সব প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, প্রবাসে এসে যেন এমন সর্বনাশা কাজ কেউ না করে। সামান্য প্রেমের জন্য কেউ যেন মূল্যবান জীবন নষ্ট না করে। মোবাইলে প্রেম করে, একটু আলাপচারিতা করে যেটুকু শান্তি পাওয়া যায় তার জন্য যেন পরিবারের এমন শোক না সইতে হয়।
প্রসঙ্গত, নিহত প্রবাসী নূর হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার (সাবেক ফটিকছড়ির) ভুজপুর থানায়। তার গ্রামের নাম হাজীপাড়া, এটি বাগানবাজার ডাকঘরের অন্তর্গত ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। তার বাবার নাম শফিউল্লাহ ও মাতার নাম খায়রুন্নেচ্ছা বেগম। পরিবারের ৫ ভাই ৩ বোনের মধ্যে ৭ম জন ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবে এসেছিলো নূর হোসেন, থাকত বড় ভাই খোকনের সাথেই।

প্রবাসখবর.কম/বি

প্রবাস খবর
এই বিভাগের আরো খবর